অ্যান্টি সেলুলাইটের ঘরোয়া স্ক্রাব

সেলুলাইট হল শরীরের এক ধরনের পিণ্ডময় চর্বি। যা সাধারণত উরু, আপার আর্ম এবং বাটকেদেখা যায়। আপনি হয়ত বিভিন্ন স্পা সেলুনে অ্যান্টি সেলুলাইট স্ক্রাব সম্পর্কে শুনছেন। স্পাতে এগুলো করা বেশ ব্যয়বহুল। সেলুলাইট আমাদের নারী সমাজের কাছে অনেক বড় আতঙ্কের নাম। যত কম বয়সই হোক না কেন সেলুলাইট সম্পূর্ণ রূপে আপনার মসৃণ, নমনীয় ত্বক কুঁচকে নষ্ট করে দেয়। এর থেকে পরিত্রাণের আরেকটি উপায় হল প্লাস্টিক সার্জারি। কিন্তু ঘরোয়া উপায়ে যদি এটি নির্মূল করা যায় তবে কেন হাজার হাজার বা শত শত টাকা ব্যয় করা লাগবে? ঘরোয়া উপায় যেমন সস্তা তেমনি কার্যকরী।কফি, চিনি,অলিভ অয়েল বা গ্লিসারিনের মত সাধারণ কিছু উপাদান লাগবে এটির জন্য। এসব উপাদান শরীরের কুৎসিত সেলুলাইট দূরীকরণের জন্য একটি দুর্দান্ত এবং প্রাকৃতিক উপায়। আবার রাসায়নিক উপাদান বা ব্যয়বহুল চিকিত্সার ফলে সৃষ্ট উদ্বেগ থেকেও আপনাকে মুক্ত করে। আজ আমি যেসব ঘরোয়া স্ক্রাবের কথা বলবো সেগুলো ব্যয়বহুল চিকিৎসার মতই সমান ভাবে কার্যকরী।

অ্যান্টি সেলুলাইটের ঘরোয়া স্ক্রাব

অ্যান্টি সেলুলাইটের ঘরোয়া স্ক্রাব

অ্যান্টি সেলুলাইটের ঘরোয়া স্ক্রাব

অ্যান্টি সেলুলাইটের ঘরোয়া স্ক্রাব-

কফি লবণের স্ক্রাবঃ

সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ক্রাবের একটি হল কফি স্ক্রাব। আমরা অনেকেই হয়ত জানি ক্যাফেইন শরীরে জমে থাকা ফ্যাটের পরিমাণ হ্রাস করে এবং সেলুলাইট বিরোধী বহু পণ্যে সক্রিয় উপাদান হিসাবে ক্যাফেইন ব্যবহার করা হয়। ৩ চামচ জলপাই তেল, ১/২ কাপ লবণ এবং ২ কাপ গ্রাউন্ডেড কফি এক সঙ্গে মেশান। লবণ আপনার ত্বকের মরা কোষ দূর করবে আর জলপাই তেল আপনার ত্বকে আর্দ্রতা যোগাবে। সঠিকভাবে আপনার ত্বক পরিষ্কার করার জন্য একটি হট শাওয়ার নিন। সার্কুলার মুভমেন্টে ৫ মিনিট ধরে শরীরে বানানো স্ক্রাবার দিয়ে স্ক্রাব করুন। তবে সেলুলাইট সমস্যাজনিত এরিয়ায় স্ক্রাবিং জোরদার করুন। তিন মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন এবং তারপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফে্লুন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে ২-৩ দিন অ্যাপ্লাই করুন।

কফি এবং অ্যাভোকাডো স্ক্রাবঃ

১ কাপ গ্রাউন্ডেড কফি, ১ কাপ চিনি, ১টি ম্যাশড অ্যাভোকাডো এবং ১ চা চামচ জলপাই তেল। একটি বাটির মধ্যে সব উপকরণ নিন। তারপর ভেজা শরীরে বৃত্তাকার গতিতে যেখানে সেলুলাইট আছে সেখানে স্ক্রাব করুন। ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কফি ও নারকেল স্ক্রাবঃ

একটি বাটিতে ১/২ কাপ নারকেল তেল নিয়ে ডবল বয়লারের মধ্যে এটি উত্তপ্ত করুন। এরপর এর মধ্যে ১ কাপ গ্রাউন্ড কফি, ১ কাপ চিনি এবং ১/২ চামচ দারচিনি গুঁড়া যোগ করে সব উপকরণ একসঙ্গে মেশান এবং একটি বায়ুরোধী কন্টেইনারে সংরক্ষণ করুন। সপ্তাহে ১-২ বার (যদি আপনি চান তবে দৈনন্দিন) ব্যবহার করুন। এই স্ক্রাব শরীরের জমাকৃত ফ্যাট রিমুভ করার সাথে সাথে কফি এবং চিনি আপনার ত্বকের মরা কোষ দূর করবে এবং নারকেল তেল ত্বক নরম এবং ময়েশ্চারাইজ করবে।

ব্রাউন সুগার ও সি সল্ট স্ক্রাবঃ

এই উপাদান গুলো পেতে অনেকেরই সমস্যা হতে পারে আবার দেখা যাবে অনেকেই সহজে পেয়ে যাবেন। যাদের কাছে সহজলভ্য তারা এই রেসিপিটি ট্রাই করতে পারেন। ১ কাপ বাদামি চিনি, ১ কাপ সামুদ্রিক লবণ, ২ টেবিল চামচ অলিভ ওয়েল বা তিল তেল, ২ টেবিল চামচ ভ্যানিলা এক্সট্রাক্ট, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং ২ টেবিল চামচ মধু নিন। একটি বাটিতে তারপর উপকরণ গুলো ভালো করে মেশান। ভালো একটি বায়ুরোধী কাঁচের বোয়ামের মধ্যে এই স্ক্রাব সঞ্চয় করুন। আঙ্গুল দিয়ে সার্কুলার মোশনে এই স্ক্রাব আপনার ভেজা শরী্রে ম্যাসেজ করুন। এভাবে প্রায় ৫ মিনিট ধরে আপনার ত্বকের উপর রেখে দিন এবং তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফে্লুন।

কর্ণ অয়েল ট্রিটমেন্টঃ

এক কাপ ভূট্টার তেলের সাথে ১/২ কাপ জাম্বুরা্র রস এবং ২ চা চামচ শুকনো থাইম মেশান। নিতম্ব, উরুর এলাকায় ম্যাসেজ করুন মিশ্রণটি। শরীরে তাপ লক করার জন্য প্লাস্টিক র‌্যাপ করুন। ভালো ফলাফলের জন্য সমস্যা যুক্ত প্রতিটি এলাকার উপর একটি গরম প্যাড পাঁচ মিনিটের জন্য রাখুন।

ওটমিল এবং কফি স্ক্রাবঃ

১/২ কাপ স্টিমড ওটমিল, ২চা চামচ লবণ, ২ চা চামচ কফি, ৫-৬ ফোঁটা অরেঞ্জ এসেন্সিয়াল অয়েল, ৩-৪ ফোঁটা রোজমেরি এসেন্সিয়াল অয়েল এবং ২-৩ ফোঁটা দারচিনির তেল একসাথে মিশিয়ে নিন। তারপর সেলুলাইট সমৃদ্ধ অংশে ৫-১০ মিনিটের জন্য ম্যাসেজ করুন। তারপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং তারপর ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা বাঞ্ছনীয়। সব শেষে ক্লিঞ্জিং ক্রিম বা দুধ দিয়ে আপনার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে ভুলবেন না।

– জাম্বুরার জেল ১০০ গ্রাম, ঘৃতকুমারীর জেল ও ১৫-২০ ফোঁটা জাম্বুরার তেল নিন। এগুলো ভালো ভাবে মেশান এবং একটি ডার্ক কাচের বোতল মধ্যে এই মিশ্রণ সংরক্ষণ করুন। তারপর প্রতিদিন মিশ্রণটি শরীরে শোষিত না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাটি এলাকায় আস্তে তা ম্যাসেজ করুন। এই জেল সন্ধ্যায় প্রয়োগ করা হয়, কেননা জাম্বুরার তেল সাইট্রাস অয়েল যা সূর্যের সংস্পর্শে আসলে ত্বক জ্বলতে পারে। এই ট্রিটমেন্ট শুরু করার আগে একটি প্যাচ টেস্টের মাধ্যমে সন্দেহমুক্ত হয়ে নিতে পারেন। সেলুলাইট যেমন একদিনে শরীরে জমা হয় না তেমনি একদিনে দূরও হয় না। তাই এই সমস্যার চিকিত্সার জন্য আপনার ধৈর্য এবং অধ্যবসায় প্রয়োজন।