চেহারায় দীপ্তি ছড়ানোর মৌসুম এখন। জমকালো, স্টাইলিশ আর প্রাণজাগানো লুকের জন্য যতো এক্সপেরিমেন্ট, সেগুলোর বেশির ভাগই হতে পারে এই শীতে।

কেমন হবে শীতের মেকাপ

শীত সাজের ঋতু। এ আবহাওয়াতেই সাজতে ইচ্ছে করে। বিয়ে, পার্টি, নানা রকম অনুষ্ঠান লেগে থাকে এ মৌসুমে, সে ইচ্ছা পূরণের জন্যই তো, মেকআপ চাই। নিজেকে সুন্দর করে দেখাতে। বেসিক কিছু জিনিস জানা থাকলে এটা কঠিন কিছু নয়। নিজেই করা যায়। শুনেছি, অনেকের কাছে এ এক যন্ত্রণা। আসলে, এখানে একটা মজা আছে। যখন সাজবেন, সেটিকে বাধ্যতামূলক কোনো কাজ না ভেবে উপভোগ করুন। একটা খালি ক্যানভাসে ধীরে ধীরে ছবি ফুটিয়ে তোলার মতো। তাতে ভালো লাগবে, সুন্দরও হয়ে ওঠা যাবে। কারণ, মেকআপ আসলেই একরকম পেইন্টিং। যে যতো সুন্দরভাবে করতে পারেন, তা হবে ততোই নিখুঁত।

কেমন হবে শীতের মেকাপ

শীতের মেকআপ ট্রেন্ড সব সময়ই কিছুটা লাউড। ব্যবহৃত হয় উজ্জ্বল বেইজ, ঝলমলে শেড, গাঢ় লিপস্টিক আর ডিপ ব্লাশঅন। গলে পড়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় নেই বলে ম্যাটের পরিবর্তে ট্রেন্ডে উঠে আসে গ্লসি, শাইনি মেকআপ। সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন এই বছরে আন্তর্জাতিক মেকআপেও প্রবলভাবে দেখা দেবে ডার্ক রঙের ব্যবহার।শীতকালীন মেকআপ বলে কথা! এতে গাঢ় রঙের ব্যবহারে সাজে কিছুটা এক্সপেরিমেন্ট করা যেতেই পারে। শুরুর আগে একটা ব্যাপার মাথায় রাখবেন। সেটি হলো, যতো সুন্দর করেই আপনি নিজেকে সাজান না কেন, সেটি সেট হবার জন্য প্রয়োজন সুস্থ ত্বক। না হলে কোনো মেকআপেই মানানসই মনে হবে না আপনাকে। শীতকালীন ত্বকের সুস্থতা নিয়ে আগেই বলেছি। তাই সেগুলো নিয়ে নতুন করে কিছু বললাম না।
সাজের সঙ্গে সময়েরও একটা সম্পর্ক আছে। দিন ও রাতের মেকআপ সব মৌসুমে আলাদা। দিনে হালকা আর রাতের জন্য জমকালো সাজ। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম তো হতেই পারে। মুড এবং অনুষ্ঠানের ধরন বুঝে শীতদুপুরেও মাঝে মাঝে ভারী সাজ বেমানান মনে হবে না।

সাজের সঙ্গে সময়েরও একটা সম্পর্ক আছে। দিন ও রাতের মেকআপ সব মৌসুমে আলাদা। দিনে হালকা আর রাতের জন্য জমকালো সাজ।দুপুরে বা রাতে, যেকোনো সময়েই সাজের আগে অবশ্যই ভালোভাবে মুখ, ঘাড়, পিঠ পরিষ্কার করে নিন। ব্যবহার করুন অয়েল বেইজড ক্লিনজার। তৈলাক্ত ত্বক হলে বাড়তি তেল দূর করতে তুলায় করে সামান্য টোনার বুলিয়ে নিতে পারেন। মেকআপে বেইজ তৈরি করা সবচেয়ে জরুরি। গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে অয়েল বা ওয়াটার বেইজড ফাউন্ডেশন লাগান। ব্লেন্ড করুন ভালোভাবে। মুখে, গলায় ও ঘাড়ে সমানভাবে। এরপর কমপ্যাক্টের প্রলেপ দিন। শীতের দিনে ফ্রস্টিরঙা আইশ্যাডো খুব মানানসই। পেইল হোয়াইট, ক্রিম, আইসি পিঙ্ক, স্কাইÑ এসব রঙ। অবশ্য ইচ্ছে হলে, পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়েও বেছে নিতে পারেন শ্যাডো। তবে এ ট্রেন্ড কিছুটা সেকেলে হয়ে গেছে। চোখের পাতায় যে রঙই ব্যবহার করুন না কেন, তার আগে স্কিন কালার আইশ্যাডোর ব্যবহার খুব জরুরি। দিনে চোখে স্মোকি ভাব না এনে কোণের দিকে সামান্য গাঢ় করে লাগাবেন। তাতেই ভালো লাগবে। আইব্রাও ব্রাশে ডিপব্রাউন শেডের রঙ মাখিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিন। এতে একধরনের নতুনত্ব আসবে। এরপর কাজল। আমি সব সময়ই কাজল ব্যবহারের পক্ষপাতী। কারণ, এর ব্যবহারে চেহারায় একটা নরম ভাব আসে। কাজলের হালকা রেখা টানুন চোখের নিচের পাতায়, আর উপরের পাতায় আইলাইনারের রেখা শুরু করুন সরু থেকে, শেষের দিকে সামান্য মোটা করে টেনে নিন। ঘন করে মাশকারা লাগান। কমপক্ষে দুবার। অনেকেই গালে ব্লাশঅন লাগানো পছন্দ করেন না। এটি খুব জরুরি নয়, তবে চেহারায় তারুণ্য নিয়ে আসার জন্য ব্লাশঅন চমৎকার কাজ করে। তা ছাড়া এতে সাজকেও সম্পূর্ণ মনে হয়। কান থেকে গাল পর্যন্ত একটা কাল্পনিক রেখায় ব্রাশ টানুন। সব ধরনের ত্বকের রঙের সঙ্গে মানিয়ে যায় লাইট পিঙ্ক ও চেরির শেডগুলো। তারপর লিপস্টিক দিন। ঠোঁটের সঠিক শেপ পেতে লিপস্টিক ব্যবহারের আগে লিপপেন্সিল দিয়ে ঠোঁট এঁকে নেয়াটাই ভালো। লাইট অরেঞ্জ, ফুশিয়া, ডিপ পিঙ্ক, র্যাডিশ ব্রাউন থেকে বেছে নিন যেকোনো রঙ।

কেমন হবে শীতের মেকাপ

কেমন হবে শীতের মেকাপ

রাতের মেকআপ সব সময়ই জমকালো। এটি মূলত আলোর কারণেও জরুরি। হালকা ম্যাড়ম্যাড়ে সাজ বৈদ্যুতিক আলোতে ঠিক মানানসই মনে হয় না। চেহারায় বাড়তি উজ্জ্বলতা আনার জন্য মুখত্বক পরিষ্কার করে গোলাপজলে অল্প একটু তুলা ভিজিয়ে সারা মুখে বুলিয়ে নিন। তারপর আগের মতো বেইজ তৈরি করুন। ফাউন্ডেশনের উপরে ফেস পাউডার লাগান। পাফ দিয়ে বাড়তি পাউডার ঝেড়ে ফেলুন। জমকালো সাজের মূলমন্ত্র হলো খুব সুন্দরভাবে চোখ সাজানো। তাহলেই গর্জাস মনে হয় সাজ। শীতের রাতে আইশেড হিসেবে আদর্শ হলো বাদামি বা সোনালি শেডের রঙগুলো। একসঙ্গে অ্যাকোয়া ব্লু ও গ্রে আইশ্যাডোও মিলিয়ে নিতে পারেন। হাইলাইটার হিসেবে দিন শাইনি মভ, সিলভার কালারের শেড। চোখের কোণে সিলভার হাইলাইটার স্মাজ করে দিন। চোখ ছোট হলে আইব্রাও পেন্সিলের রেখা চোখের একটু নিচ থেকে টানবেন। যাতে কিছুটা বড় দেখায়। মাশকারায় কালোর পরিবর্তে ব্যবহার করুন ব্ল্যাকিশ ব্লু, গ্রিন, বারগ্যান্ডি শেডের রঙ। কমপক্ষে দুই থেকে তিন পরত মাশকারা লাগাবেন চোখের পাতায়। পাপড়িগুলো ঘন এবং বড় দেখাবে। ইচ্ছে হলে ফলস আইল্যাশ ব্যবহার করতে পারেন। তাতে আরও সুন্দর হয়ে উঠবে চোখ। ঠোঁটে আউটলাইন এঁকে রেড, বারগ্যান্ডি, ম্যাজেন্টা, ডিপ মভ জাতীয় গাঢ় রঙের লিপস্টিক লাগান। তার উপরে গ্লস বা গোল্ড হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন। চকচকে লাগবে ঠোঁট। কপালে ছোট টিপ পরতে পারেন, সঙ্গে মানানসই হেয়ারস্টাইল। তবে চুল সিল্কি হলে ব্লো করে ছেড়ে রাখলেই মনে হয় বেশি ভালো দেখাবে। ব্যস, মানানসই পোশাক গায়ে জড়িয়ে এবার আপনি কোনো অনুষ্ঠানে কিংবা বেড়াতে যাবার জন্য তৈরি।