গরম মানেই রোদ, ঘাম আর ধুলো। আর এসব মিলেই বাড়িয়ে তোলে ত্বকের সমস্যা। সূর্যের প্রখর রোদ ছাপ ফেলে যায় আপনার ত্বকের স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে। এই সময়ে ত্বকের প্রয়োজন বিশেষ যত্নের। গরম তো পড়েই গেছে! জেনে নিন কীভাবে এই গরমে ত্বকের নানা সমস্যার মোকাবিলা করবেন।

গরমে ত্বকের সমস্যার ঘরোয়া সমাধান

সানবার্ন

১/মুলতানি মাটি, মধু, লবঙ্গ গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট ত্বক লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
২/চায়ের লিকারের সাথে হালকা গরম তিলের তেল ও আমন্ড অয়েল মিশিয়ে লাগান। আমন্ড অয়েল ত্বক নরম রাখবে আর চা ও তিলের তেল সানবার্ন সারাতে সাহায্য করবে।
৩/কমলালেবুর খোসা গুঁড়ো কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে মুখ, ঘাড় ও গলায় ৫ মিনিট রাখুন। হালকা হাতে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।
৪/রোদে পোড়া দাগ কমানোর জন্য মধু, দই, লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

ঘামাচি বা হিট র‍্যাশ

ঢিলেঢালা, প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি পোশাক পরুন। পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করুন। গোসল করার পরে খোলামেলা জায়গায় হাত-পা শুকিয়ে নিন। খুব জোরে তোয়ালে দিয়ে মুছবেন না। ঠাণ্ডা জায়গায় থাকার চেষ্টা করুন। র‍্যাশ খুব বেশি চুলকালে বা ছড়িয়ে গেলে চন্দনগুঁড়ো ও গোলাপজলের পেস্ট তৈরি করে লাগান। নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। গোসলের আগে ঘামাচির ওপর টক দইয়ের প্রলেপ দিয়ে কিছুক্ষণ রাখতে পারেন। এতে ঠাণ্ডা ভাব বজায় থাকবে। গরমে অনেক সময় ইমিটেশনের গয়না, ঘড়ি, চশমা পরলে ঘামাচি বের হয়। সেক্ষেত্রে লবঙ্গ, শসা, নিমপাতা ও চন্দনবাটা একসঙ্গে পেস্ট করে লাগান। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ঘামাচির হাত থেকে রক্ষা পেতে স্ট্রবেরি পানিতে ফুটিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখুন। এই ঠাণ্ডা পানি ঘামাচির ওপর লাগান।

সান স্পট

অতিরিক্ত সময় রোদে থাকলে সান স্পটের সমস্যা দেখা যায়। রোদে থাকলেও টুপি, ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খান। ফ্রি-র্যাডিকাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। অনেক সময় হরমোনাল সাপ্লিমেন্ট, অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ থেকে পিগমেন্টেশনের সমস্যা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ২ চা চামচ পাতিলেবুর রস, পাকা পেঁপের ক্বাথ ও ১ চা চামচ আঙুরের রস দাগের ওপর ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

ব্যাক অ্যাকনে

ব্যাক ওপেন বা বড় গলার পোশাক পরলে অয়েল ফ্রি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। তবে অ্যাকনের সমস্যা বাড়লে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ পাউডার বা ক্রিমও লাগাতে পারেন। ওটমিল ও মধুর মিশ্রণও ভালো। ওটমিল অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়, মধু ত্বক নরম ও মসৃণ রাখে। বেসন, গোলাপজল, লেবুর রস মিশিয়েও লাগাতে পারেন।