ফেইস ওয়াশ ব্যবহারের কিছু টিপস

টিপসঃ
১.সকাল ও সন্ধ্যা, দিনে দুবার ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করুন। এর বেশী ব্যবহার করবেন না, কেননা অতি ব্যবহার আপনার ত্বককে শুষ্ক করে তুলবে।
২.ফেইস ওয়াশ বেশী সময় মুখে রাখলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পরবে, তাই এক মিনিটের বেশী সময় ফেইস ওয়াশ মুখে রাখবেন না।
৩.মুখে ফেইস ওয়াশ ম্যাসেজ ও ধোয়া, পুরো প্রকৃয়া দেড় মিনিটে শেষ করবেন।

কোন ত্বকে কোন ফেইস ওয়াশঃ
১.আপনার যদি মুখে ব্রণ থেকে থাকে তবে স্যালিসাইলিক এসিড যুক্ত ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করুন। এটি তেল জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে প্রতিরোধ করে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

২.ব্রণ যুক্ত মুখে কখনোই স্ক্র্যাবার যুক্ত ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করবেন না। স্ক্রাবারে থাকা বিডস ব্রণের মাথা ভেঙ্গে ব্রণের জীবানু চারিদিকে ছড়িয়ে পরতে সহায়তা করে।

৩.শুষ্ক ত্বকে ফেইস ওয়াশের বদলে ক্লিঞ্জিং মিল্ক ব্যবহার করুন। সপ্তাহে একদিন চাইলে কোন ক্রীম বেইসড স্ক্রাবার যুক্ত ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। স্ক্র্যাবার আপনার মুখের মৃত কোষ ঝরে যেতে সহায়তা করবে। কিন্তু নিয়মিত ব্যবহার করবেন না কারণ তা আপনার শুষ্ক ত্বকে সহজেই আচর ফেলতে পারে।

৪.গর্ভাবস্থায় অনেক সময় ব্রনের প্রকোপ বাড়ে। তখন স্যালিসাইলিক এসিড যুক্ত ফেইস ওয়াশ এর বদলে বেনজোয়াইল পারঅক্সাইড যুক্ত ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করবেন। স্যালিসাইলিক এসিড গর্ভবস্থায় ব্যবহার করা যাবে কিনা তা বিতর্কিত। অপরদিকে American Pregnancy Association এর মতে বেনজোয়াইল পারঅক্সাইড এর গর্ভাবস্থার উপর ক্ষতিকর প্রভাব নেই। তবে এর ব্যবহারে ত্বক কিছুটা শুষ্ক বোধ হতে পারে, তাই ফেইস ওয়াশ ব্যবহারের পরে মশ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করুন।

৫.যারা নিয়মিত মেকাপ করেন, তাদের মুখ একসময় শুষ্ক হয়ে পরে। আপনারা ceramides, hyaluronic acid এবং glycerin যুক্ত ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করবেন।

৬.যাদের ত্বক অতি তৈলাক্ত ও লোমকূপগুলো বড় বড়, আপনারা retinol যুক্ত ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করবেন। এটি লোমকূপে জমে থাকা তেল পরিষ্কার করে ও লোমকূপ ছোট করে তোলে। এছাড়া sulfur যুক্ত ফেইস ওয়াশ ও ব্যবহার করতে পারেন, এটি লোমকূপ থেকে তেল টেনে বের হয়ে যেতে সহায়তা করে।

৭.বলিরেখাযুক্ত ত্বকে alpha hydroxy acid (AHA) যুক্ত ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে টানটান করে বলিরেখা কে কম দৃশ্যগ্রাহ্য করে তোলে।

৮.যারা ত্বকের বুড়োটে ভাব কমাতে চান, সপ্তাহে একবার গ্রীন টি স্প্যাশ ব্যবহার করুন। এক কাপ পানি ফুটিয়ে কাপে ঢেলে নিন। এরমধ্যে দুটি গ্রীন টি এর ব্যাগ ছেড়ে দিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে এটির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

প্রাকৃতিক ফেইস ওয়াশঃ
যদি কেউ রাসায়নিক ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করতে না চান, প্রাকৃতিক ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। দুই চামচ বেসন ও এক চামচ হলুদ গুড়ো অল্প দুধ দিয়ে গুলে পেস্ট বানিয়ে নিন।তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি চমৎকার ফেইস ওয়াশ। শুষ্ক ত্বকের জন্য এক চামচ টক দইয়ের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে বানিয়ে নিয়ে পারেন দারুন ফেইস ওয়াশ।

ফেইস ওয়াশ ব্যবহারের নিয়মঃ
১.হাতের চেটোয় অল্প ফেইস ওয়াশ নিয়ে, দুই হাতের তালু দিয়ে ঘষে মাখিয়ে নিন।
২.এরপর হাতের তালু মুখে আলতো করে বুলিয়ে ফেইস ওয়াশ মুখে লাগিয়ে নিন।
৩.এবার আঙ্গুল দিয়ে চক্রাকারে আস্তে আস্তে ম্যাসেজ করুন।
৪.কপাল থেকে শুরু করে একে একে গাল, নাক, চিবুক ম্যাসেজ করুন।
৫.কপাল ও নাকে ম্যাসেজ করতে বেশী সময় নিন, কেননা এখানেই তেলের পরিমাণ বেশী।
৬.বেশ অনেকবার পানির ঝাপ্টা দিয়ে ফেইস ওয়াশ ধুয়ে ফেলুন, যাতে এর কোন অংশই মুখে লেগে না থাকে।সম্ভব হলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন।
৭.ধোয়া শেষে নরম তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুখের পানি শুকিয়ে নিন। তোয়ালে দিয়ে মুখ ঘষবেন না।